অনলাইন রিপোর্ট
নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য ব্যবহৃত স্বল্পমূল্যের পাদুকার ওপর ভ্যাট আরোপ তাদের জন্য বাড়তি চাপ তৈরি করছে এবং এতে শিল্পটি হুমকির মুখে পড়ছে বলে অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশ পাদুকা প্রস্তুতকারক সমিতি। সে কারণে পাদুকা শিল্পে আরোপিত ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
রোববার (৩ মে) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, দেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য স্বল্পমূল্যের পাদুকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একজন রিকশাচালক বা দিনমজুরের কাছে ১০/১৫ টাকাও অনেক মূল্যবান। এ ধরনের পণ্যে ভ্যাট আরোপ করলে তা তাদের নাগালের বাইরে চলে যায়।
দরিদ্র মানুষের ব্যবহৃত এই পণ্য ভ্যাটমুক্ত না করা হলে শিল্পটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট লক্ষাধিক শ্রমিক কর্মসংস্থান হারানোর ঝুঁকিতে পড়বেন। দেশীয় উৎপাদন বন্ধ হলে বিদেশি পণ্য বাজার দখল করবে, যা দেশের অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর হবে।
তারা বলেন, ২০১৬ সাল থেকে ২০২৫ সালের ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত ১৫০ টাকা মূল্যের হাওয়াই চপ্পল ও পাদুকার ওপর ভ্যাট অব্যাহতি ছিল। তবে ২০২৫ সালের ৯ জানুয়ারি থেকে এ সুবিধা প্রত্যাহার করে ভ্যাট আরোপ করা হয়। এর ফলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর ক্রয়ক্ষমতা কমেছে এবং দেশীয় উৎপাদন হ্রাস পাচ্ছে। অন্যদিকে, বিদেশি পণ্য আমদানি বেড়ে যাওয়ায় বিপুল পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা দেশ থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে। দেশের ক্ষুদ্র ও মাঝারি এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে এবং সাধারণ মানুষের স্বার্থ রক্ষায় দ্রুত ভ্যাট অব্যাহতি পুনর্বহাল করা জরুরি।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পাদুকা প্রস্তুতকারক সমিতির সভাপতি হাজি মোহাম্মদ ফজলু, সমিতির আইন উপদেষ্টা ব্যারিস্টার তাইফুল সিরাজ, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুস আশরাফ উদ্দিন, সাবেক সভাপতি শাখাওয়াত, লিগ্যাল অ্যাডভাইজার অ্যাডভোকেট এনামুল হক প্রমুখ।
