ডেস্ক রিপোর্ট
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ঠাকুরগাঁও-১ (সদর, রুহিয়া ও ভুল্লী) আসনের উপনির্বাচনে ভোট শুরুর আগেই কেন্দ্রে কেন্দ্রে ভোটারদের উপস্থিতি দেখা গেছে। এর মধ্যে সনাতন ধর্মাবলম্বী নারী ভোটারদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে তারা নির্ধারিত সময়ের প্রায় আধা ঘণ্টা আগেই কেন্দ্রে এসে লাইনে দাঁড়ান।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে ঠাকুরগাঁওয়ের ভুল্লী উপজেলার আউলিয়াপুর ইউনিয়নের বুড়িহাট উচ্চবিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে এমন চিত্র দেখা যায়। সকাল ৮টায় ভোটগ্রহণ শুরুর কথা থাকলেও তার আগেই ভোট দিতে আসা নারীরা সারিবদ্ধভাবে অপেক্ষা করছিলেন।
ভোট দিতে আসা বৃদ্ধা শান্তি বালা বলেন, আজ সকালে ঘুম থেকে উঠে প্রথমে বাড়ির কাজ শেষ করেছি। এরপর রান্নাবান্না করে খাওয়া-দাওয়া সেরে ভোট দিতে এসেছি। ভোট দেওয়ার জন্য সকালে বাড়ি থেকে বের হয়েছি, যাতে সময়মতো কেন্দ্রে পৌঁছাতে পারি। এখানে এসে দেখি, আরও অনেকে ভোট দিতে এসেছেন। এখনো ভোটগ্রহণ শুরু হয়নি, তাই লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছি। ভোট শুরু হলেই নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেব।
আরেক ভোটার প্রতিমা রানী বলেন, সকালে ভোট দিতে এসেছি, কারণ সকালে ভিড় কম থাকে। তাই আগেভাগেই কেন্দ্রে চলে এসেছি। ভোট শুরুর আগেই লাইনে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছি।
কেন্দ্রটির প্রিসাইডিং কর্মকর্তা মো. রেজওয়ানুল ইসলাম ঢাকা পোস্টকে বলেন, বুড়িহাট উচ্চবিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রে মোট ভোটার ৩ হাজার ৬৮৭ জন। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী সকাল ৮টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। ভোটগ্রহণ সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে এসে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম বলেন, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্যভাবে সম্পন্ন করতে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ভোটাররা যাতে নির্ভয়ে কেন্দ্রে এসে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেন, সে জন্য প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে পর্যাপ্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি যে কোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে স্ট্রাইকিং ফোর্স ও রিজার্ভ ফোর্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে। নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্ট সবাই দায়িত্ব পালন করছেন।
নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ঠাকুরগাঁও-১ আসনের তিন উপজেলায় মোট ১৮৫টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় ১১৩টি, নবগঠিত রুহিয়া উপজেলায় ৩৩টি এবং ভুল্লী উপজেলায় ৩৯টি কেন্দ্র রয়েছে।
এ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ১৫ হাজার ৮৫৩ জন। তাদের মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৫৭ হাজার ২১৯ জন, নারী ২ লাখ ৫৮ হাজার ৬৩০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার চারজন। এ ছাড়া পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিতে নিবন্ধন করেছেন ২৮৭ জন। তাদের মধ্যে পুরুষ ২৪৯ জন এবং নারী ৩৮ জন।
গত ২৯ সেপ্টেম্বর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে এ আসনে ছয়জন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়। তারা হলেন বিএনপির মির্জা ফয়সল আমীন ও মো. ওবায়দুল্লাহ মাসুদ, জামায়াতে ইসলামী ও সমমনা দলগুলোর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী হাফেজ ডা. মো. খাদেমুল ইসলাম, মো. আবদুল আলীম নিজামী এবং হুসাইন মুহাম্মদ ওমর ফারুক।
তবে ৫ অক্টোবর দলীয় সিদ্ধান্তে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন বিএনপির জেলা সহসভাপতি মো. ওবায়দুল্লাহ মাসুদ। ফলে চূড়ান্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন পাঁচজন। তাদের মধ্যে বিএনপির মির্জা ফয়সল আমীন এবং জামায়াতে ইসলামী ও সমমনা দলগুলোর প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেনকে ঘিরে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা তৈরি হয়েছে।
গত ২০ আগস্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর ঠাকুরগাঁও-১ আসনটি শূন্য হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে আসনটিতে উপনির্বাচনের আয়োজন করা হয়েছে।
এর আগে চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসন থেকে জয়ী হয়েছিলেন বিএনপির সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি পেয়েছিলেন ২ লাখ ২৮ হাজার ৭৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেন পেয়েছিলেন ১ লাখ ৩২ হাজার ৫৮৪ ভোট। এ ছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. খাদেমুল ইসলাম পেয়েছিলেন ৩ হাজার ৮৩৩ ভোট।
